শীতের সকালে একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠতাম। একদিন উঠেই মিষ্টি এক ঘ্রাণ পাচ্ছিলাম। দেখি মা পিঠা বানাচ্ছেন। তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে খেতে গেলাম। আহা! মায়ের হাতের পিঠা যেন অমৃত।
সকালটা চাচাতো ভাই বোনদের সাথে পিঠার গন্ধেই কাটত, বিকেলে হাঁটতে বের হতাম সবার সাথে, সারা মাঠ যেন হলুদ শাড়ি পরে আছে।
একবারের গল্প বলি। আমরা সবাই গ্রামে গিয়েছি। সেই পিঠা পুলি আর ঘোরাঘুরির উৎসব লেগেছে যেন। একদিন ঠিক হলো আমরা মামার বাড়ি যাব সন্ধ্যায়। সে অনুযায়ী সবাই বিকেল বিকেল তৈরি হয়ে নিলাম। বাবা, মা চাচাতো ভাই সিয়াম, জাহিদ আর আমি।
যাওয়ার সময় একটা ছেলেকে দেখলাম পলিথিন আর কাগজ টোকাচ্ছে, পরনে কিছু নেই, শুধু একটা ছেঁড়া লুঙ্গি আর পুরাতন ময়লা গেঞ্জি। এরপর যা দেখলাম তা দেখে আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। ও সব কাগজগুলো এক সঙ্গে করে আগুন জ্বালিয়ে দিল। নিজে গিয়ে বসল আগুনের পাশে। জাহিদ ভয় পেয়ে যায়, ও আমার হাত ধরে বলল, “দেখ, শীতের জন্য বাঁচতে শিশুটিকে কী যুদ্ধ করতে হচ্ছে।”
আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আজ দেখলাম শুধু মানুষই নয় অনেক সময় সুন্দর প্রকৃতিও নির্মম হয়ে ওঠে, খুব কষ্ট হলো, শীত মানে যে আনন্দকে জানতাম, প্রকৃতির যে সৌন্দর্যকে চিনতাম এ কি সেই শীত? প্রকৃতি এতটা নিষ্ঠুর? একটা অসহায় শিশুকে প্রকৃতিও রেহায় দেয় না! এ কেমন বিচার, সারা দেশে এরকম না জানি কত শিশু বস্ত্রহীন শীত পাড়ি দিচ্ছে।
বাংলার শিশুদের প্রতিনিয়ত শত আঘাতের সাথে হাজার প্রতিকূলতার মাঝে বাঁচতে হয়। এ কেমন নির্মমতা? দেশ যখন উন্নতির জোয়ারে ভাসছে শিশুরা তখন গাছতলায় বস্ত্রহীন কেন?






0 Comments